শিক্ষার বাজেট বাড়ানোর লক্ষ্য শুধু ভবন নির্মাণ নয়: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

0

শিক্ষার বাজেট বাড়ানোর লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং শিক্ষার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষকে শিক্ষার মূলধারায় আনা এবং শিশুদের নৈতিকতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা শিশু-কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার এখন ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি অবশ্যই অর্জনের বিষয়। তবে এর অর্থ হলো এখনো প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে এই জনগোষ্ঠী প্রায় চার কোটি। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিবেচনায় নিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আলোচনা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও এর আওতায় রয়েছে। ফলে এই প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করছে এবং তাদের কার্যক্রমের ফল কী সেদিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে শিক্ষা থেকে কেউ বাদ পড়তে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী যে শিক্ষাবিষয়ক ভিশন দিয়েছেন, তার মূল বিষয় হলো কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। একই সঙ্গে সব শিশু ও শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে।

‘সঠিক শিক্ষা’ বলতে নৈতিকতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে বোঝানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী এমন শিক্ষা পাবে, যা তাকে নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে এবং একই সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেবে। এই লক্ষ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে যেসব প্রকল্প ও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এটি স্বীকার করতে হবে। আর যদি কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো না যায়, তাহলে যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তা করা হয়েছে, সেটিও পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তাই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রকল্পগুলোকে পুনর্বিন্যাস, পুনর্গঠন ও নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী যেসব শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে, তাদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে দ্রুত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব শিশুর জন্য ‘অ্যাকসেলারেটেড ফাউন্ডেশনাল এডুকেশন’ চালু করা যেতে পারে। অর্থাৎ অল্প সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় মৌলিক শিক্ষা দিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হবে। পরে সেই শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রেমিডিয়াল শিক্ষায়ও কাজে লাগানো যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মিড-ডে মিল অন্যতম। আগামী দিনে আরও কিছু প্রয়োজন হলে সেসব উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করবে।

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের যেসব কার্যক্রম চলছে, সেগুলো আরও বড় পরিসরে নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। আগামী দিনে এর পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি মানুষকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বয়সভিত্তিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি সাজাতে হবে। ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হবে তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য দ্রুত মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে হবে। আর ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও সাক্ষরতার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.