পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেন থামছেই না ‘ডিম থেরাপি’
বর্ষা-বৃষ্টির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেন থামছেই না ‘ডিম বৃষ্টি’। চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বারবার সামনে এসেছে।
কলকাতার রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে অনেকে ‘ডিম থেরাপি’ বলেও উল্লেখ করছেন।
তবে এবার তৃণমূল নয়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিম নিক্ষেপের মুখে পড়লেন সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
অভিযোগ, কোচবিহারের শীতলকুচিতে নিহত মন্টু মিঞার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তার কনভয়ের দিকে একাধিক ডিম ছোড়া হয়।
গাড়ির চারদিকের কাচ বন্ধ থাকায় ডিমগুলো উইন্ডস্ক্রিনে আঘাত করে ফেটে যায়।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ওই এলাকায় এসে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছিলেন।
এক বিক্ষোভকারীর ভাষ্য, তিনি সংখ্যালঘু এলাকায় এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছিলেন।
যদিও এ ঘটনার পর মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বা সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজের একাংশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিবাদের নামে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি হতে পারে না।
অন্যদিকে, শাসক দলের একাংশের দাবি, এটি মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
তবে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ, কোনো ব্যক্তি নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা তলব করে জানতে চেয়েছে, ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কতগুলো মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা (গাইডলাইন) তৈরি করে জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করতে হবে।
আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো নাগরিক যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। কোনো অভিযোগ থাকলে তা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে জানাতে হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রশাসনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তা এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের পরও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা এখনও থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রথমদিকে বিষয়টাকে সাধারণ জনগণ মজার ছলে নিলেও এখন বিরক্ত বোধ করছেন। রাজ্যবাসীর অভিমত, লাগাতার এসব চলতে পারে না। প্রশাসনকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে।