ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা যেন থামছেই না, বিরোধীদের তোপে মোদী সরকার

0

ভারতে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা যেন থামছেই না। এবার মহারাষ্ট্রের শিক্ষক যোগ্যতা নির্ধারণী পরীক্ষা (টেট) স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে দেশটির নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিরোধীরা। গত মাসে ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষার কেলেঙ্কারির পর নতুন এই ঘটনা ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এ ঘটনার পর কংগ্রেস বিজেপিকে ‘প্রশ্নফাঁস সরকার’ বলে কটাক্ষ করেছে। অন্যদিকে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, এই সরকার পরীক্ষা কিংবা মন্দির—কোনো কিছুই ছাড়ছে না।

মহারাষ্ট্রে প্রশ্নফাঁসের থাবা

কেন্দ্রীয় সরকার যখন নিট-ইউজি বিতর্ক, সিইউইটি-ইউজি পরীক্ষা বিলম্ব এবং সিবিএসই’র খাতা মূল্যায়ন পোর্টালের সমস্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই এই ধাক্কা এল। মহারাষ্ট্র টেট পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২০ ঘণ্টা আগে তা স্থগিত করে মহারাষ্ট্র রাজ্য পরীক্ষা পরিষদ (এমএসসিই)। থানে এলাকায় একটি অভিযানের পর দেখা যায়, কিছু ব্যক্তির কাছে হুবহু আসল পরীক্ষার প্রশ্ন রয়েছে। এরপরই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এর আগে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সূত্রপাতও হয়েছিল মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে। সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তা অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারও হয়েছে মহারাষ্ট্রে।

বিরোধীদের তোপে মোদী সরকার

প্রশ্নফাঁসের এ ঘটনা এখন বিজেপি সরকারের জন্য বড় গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘বিজেপি সরকারের অধীনে এমন কোনো পরীক্ষা নেই যার প্রশ্নফাঁস হয় না। এই সরকার এখন প্রশ্নফাঁস সরকারে পরিণত হয়েছে।’

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইঙ্গিত দিয়েছেন, এত বড় স্তরের জালিয়াতি ওপরের মহলের যোগসাজশ ছাড়া অসম্ভব। অযোধ্যার রাম মন্দিরের সাড়ে সাত কোটি রুপি অনুদান চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তারা পরীক্ষা কিংবা মন্দির, কোনোটিই ছাড়েনি। সব জায়গা থেকে চুরি করছে। প্রতিদিন এই যে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, তা ওপরের মহলের সম্পৃক্ততা ছাড়া হতে পারে না। এই চুরির টাকা দিয়েই তারা এমপি ও এমএলএদের কিনছে।’

এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের অযোগ্যতাকে দায়ী করেন। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সভাপতি হর্ষবর্ধন সাকপাল বলেন, প্রশ্নফাঁস এখন এই ব্যর্থ সরকারের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনসিপি (এসপি) মুখপাত্র অমল মাতেলে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন যদি ফাঁস হয়ে যায়, তবে কোনো পরীক্ষাই আর নিরাপদ নয়।

এ ঘটনায় এরই মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রোববার প্রায় ছয় লাখ পরীক্ষার্থীর এই টেট পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। পরীক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নতুন করে কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে না এবং দ্রুতই পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.