ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কর্মকর্তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে: প্রতিমন্ত্রী

0

ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নজরদারিতে জিও-লোকেশনভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি ভূমি সেবায় অনিয়ম ও ভোগান্তি কমিয়ে সেবাগ্রহীতাদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসি সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। সরকারি অফিসে সেবা নিতে এসে মানুষ যেন সেই মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে চায় ভূমি মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু উপস্থিত ছিলেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে অফিসে এসে চলে যেতে পারবেন না। নির্ধারিত কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সেটি অস্বীকারের সুযোগ নেই। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ ধারণা পরিবর্তনে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত সেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই বর্তমান উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য। এ জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় সেবা চালু করা হলেও এখনো অনেক মানুষ এসব সম্পর্কে জানেন না। জনগণকে সচেতন করতেই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ভূমি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস—উভয় প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যায়। এ অ্যাপের মাধ্যমে অধিকাংশ ভূমিসংক্রান্ত সেবা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব পোর্টালকে ‘সেকেন্ড জেনারেশন ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্মে’ উন্নীত করা হয়েছে, যাতে এক জায়গা থেকেই বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই ডিজিটাল সেবা নিজেরা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত নন। তাদের জন্য সারা দেশে ৮৯৩টি সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। অল্প সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে এসব কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া অ্যান্ড্রয়েড ফোনে জিও-লোকেশনভিত্তিক মনিটরিং চালু করা হবে। কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলে অবস্থান না করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে সেটি ‘রেড মার্ক’ হিসেবে দেখা যাবে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রযুক্তি বাংলাদেশে আগে চালু হয়নি।’

প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিভাগে এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.