ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রম জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের লং মার্চ

0

ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রম জাতীয়করণের দাবিতে দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর অভিমুখে লং মার্চ করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে লং মার্চ শুরু হয়।

লং মার্চে অংশ নেন শত শত শিক্ষক। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন ‘ইবতেদায়ী শিক্ষক, হয়েছে কেন ভিক্ষুক?’,‘অবহেলার ৪০ বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর’,‘চাকরি আছে বেতন নাই, এমন কোনো দেশ নাই’,‘বৈষম্য নিপাত যাক, জাতীয়করণ মুক্ত পাক’,‘এক দফা এক দাবি, জাতীয়করণ করতে হবে’ ইত্যাদি।

লং মার্চের নেতৃত্ব দেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শামসুল আলম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আল আমিন, বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী মোখলেছুর রহমান।

লং মার্চের আগে শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মুস্তাফিজ এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মুস্তাফিজ বলেন, আপনাদের সন্তান হিসেবে আমরা এখানে এসেছি। অনেকে বলে আমরা নাকি রাজনীতি বুঝি না। আমরা রাজনীতি আসলেই বুঝি না। কারণ, শিক্ষকদের দিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। মিথ্যা আশ্বাস দেই না। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো। পাঁচ তারিখের পরে যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা আসলে রাজনীতিতে এসেছি এবং আমরা যে চিন্তা করছিলাম, যে আসলে রাজনীতির যে পরিবর্তনটা হবে, সেই পরিবর্তনটা আসলে হয়নি। ১৭-২০ বছর ধরে যেই রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে আসছে, আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলগুলো সেভাবেই সেই কাজ করে আসছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রায় ১০ দিনের বেশি সময় আন্দোলন করছে। কিন্তু, তারপরও সরকারের কোনো টনক নড়েনি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যেন তাদের দাবিটা আদায় করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে ৩৬ হাজার প্রাইমারি স্কুলকে কীভাবে সরকারি করা হয়েছে। কিন্তু আপনাদের ক্ষেত্রে কেন এ আলাদা করে চিন্তা করেন? আপনারা দাঁড়ি টুপি আছেন এই জন্য? আপনারা ইসলাম নিয়ে কথা বলেন এ জন্য? এগুলো আর এ বাংলাদেশে সহ্য করা হবে না। আর কোন উপদেষ্টা, আর কোন মন্ত্রী আপনাদেরকে নিয়ে রাজনীতি করবে, সেই সুযোগ আর কখনো হবে না।

তিনি বলেন,আমরা দেখছি যে জুলাই নিয়ে কোনো কথা বলার সময় আপনাদের কত বড় ভূমিকা ছিল। আপনারা যদি এ ডাকে সাড়া না দিতেন, সারা বাংলাদেশে যদি প্রতিবাদ গড়ে না তুলতেন, তাহলে এই হাসিনার গদি নড়ানো সম্ভব ছিল না। তো, আপনারা যেই মানুষগুলো এত বড় কাজ করছেন, তারা এখনো তাদের অধিকারের জন্য এক বছর ধরে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। আর আমাদের সরকার কী করতেছে?

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক করে এনসিপি নেতা বলেন, আপনারা এ মানুষগুলোর সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না। এরা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা। আমাদের দেশ গড়ার কারিগর।

শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা আপনাদের জায়গায় অবিচল থাকবেন, আপনাদের দাবি আদায় করেন, এ জায়গায় অবস্থান করবেন। আরো যেখানে অবস্থান নেওয়ার দরকার, নেবেন। আপনাদের পাশে আপনাদের এ সমর্থনটা আছে। আমরা পাশে আছি আন্দোলনরত শিক্ষকরা ঘোষণা দেন।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শামসুল আলম বলেন, সরকার দ্রুত প্রজ্ঞাপন না দিলে আমরা সারাদেশে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.