৮৬ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শকই খাবে ৬৮ কোটি

0

রেলের দুই প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ যাবে বিদেশি পরামর্শকের পকেটে। এই দুই প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিদেশি পরামর্শক খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রকল্প দুটির মধ্যে রাজবাড়ীতে ক্যারেজ নির্মাণে নকশা প্রণয়নে ৩০ কোটি ৫ লাখ ব্যয়ের প্রকল্পে পরামর্শকরা নেবে ২৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

একই সঙ্গে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত রেলপথের ডিজাইন তৈরিতে ৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে পরামর্শকের পকেটে যাবে ৪১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। রেল বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারিগরি ও দক্ষ জনবল চরম সংকটে রয়েছে রেল বিভাগ। এজন্য সম্ভাব্য প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে মাস্টারপ্ল্যান করতে পুরোপুরি বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল। কারণ দেশে ওই ধরনের কাজ সম্পাদন করতে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সবক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি জরুরি। কারণ দেশে প্রচুর কর্মক্ষম শিক্ষিত লোক কাজ পাচ্ছে না, অথচ কারিগরি কাজ করার নামে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশিরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) আ ন ম আজিজুল হক গতকাল মঙ্গলবার বলেন, রেলপথ নির্মাণে ভূ-তত্ত্ব ও কারিগরি বিষয়গুলো বুঝে এমন দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক আমাদের দেশে নেই। এই অবস্থা ক্যারেজ নির্মাণের নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও। এজন্য জাপান, জার্মানিসহ উন্নত দেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ারসহ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোকদের হায়ার করে আনতে হয়। তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে মোটা অঙ্কের পয়সাও খরচ করতে হয়। এজন্য এ ধরনের প্রকল্পের মোট বরাদ্দে বড় অংশ যায় পরামর্শক খাতে। তবে এ দুই প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা সম্পূর্ণ ব্যয় নাও হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে এই ধরনের জনবল তৈরি সম্ভব। এজন্য আগ্রহী লোকও থাকতে হবে।

তবে সবক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরিতে জোর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা উচিত। কারণ দেশে প্রচুর শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রয়েছেন, কিন্তু তাদের কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে বেকার রয়েছেন। কারণ তারা বাজারের চাহিদা অনুসারে শিক্ষিত হননি। এজন্য বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে কারিগরি শিক্ষায় জোর দিতে হবে। শুধু কারিগরি জ্ঞানের ঘাটতির কারণেই দেশ থেকে বিদেশিরা প্রচুর অর্থ নিয়ে যাচ্ছে।    

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত রেলপথ চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেল বিভাগ। এতে মোট ব্যয় হবে ধরা হয়েছে ৫৬ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিদেশি পরামর্শক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ফিজিবিলিটি স্টাডি পর্যায়ে ১৮০ জনমাস ও বিশদ নকশা প্রণয়নে ৫৪ জনমাস (একজন ব্যক্তি এক মাসে যে কাজ করতে পারে, তাকে জনমাস বলে।) আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় আইটি খাতে ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কম্পিউটার মেরামতে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে, এদের জন্য ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘রাজবাড়ীতে একটি নতুন ক্যারেজ মেরামত কারখানা নির্মাণের জন্য বিশদ নকশা ও দরপত্র দলিল তৈরিসহ সম্ভাব্যতা যাচাই’ শীর্ষক প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেল বিভাগ। চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুন নাগাদ এর কাজ শেষ হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী নিজ ক্ষমতাবলে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছেন।

প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ৮ জন কর্মকর্তার বেতন বাবদ প্রায় ৯১ লাখ টাকা, ২ জন কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং এই ১০ জনের ভাতা বাবদ ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা সফরে ৫০ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপন ব্যয় বাবদ  ৬ লাখ টাকা, গাড়ি ভাড়া বাবদ ৫১ লাখ টাকা, অফিস ভাড়া বাবদ ১৬ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com