যেভাবে যুবাদের বিশ্বজয়

0

এই ভারতের বিপক্ষে বার বার তীরে গিয়ে তরী ডুবিয়েছেন সাকিব- তামিমরা। যুব দলও গত বছর ভারতের কাছে দু’বার ফাইনালে পুড়েছে হতাশায়। বাংলাদেশ-ভারত লড়াই হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙার গল্প। এবার যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে আর কোনো হৃদয় ভাঙার গল্পের জন্ম দেয়নি বাংলাদেশ। তীরে এসে তরী ডোবায়নি যুবারা। এবার সাফল্যের পতাকা উড়িয়ে নৌকা ভিড়িয়েছে বিজয়ের বন্দরে। ভুল না করার প্রতিজ্ঞা থেকেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল জিতে নিয়েছে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বৃষ্টি আইনে ৩ উইকেটে হারিয়ে আকবর-পারভেজরা ক্রিকেট দুনিয়াকে বার্তা দিয়ে রাখলো- আমরা উঠে আসছি।

বড় স্বপ্ন মনের মধ্যে ছিলোই।

বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আকবর আলীর নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ দল দারুণ ছন্দে ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে বাংলাদেশ আসলেই কতটা ভালো করতে পারবে, সেই শঙ্কাও ছিল। সব শঙ্কা মাঠের পারফরম্যান্সে উড়িয়ে দিলেন আকবররা। দেখিয়ে দিলেন, খেলতে জানলে কন্ডিশন কোনো বাধা নয়। চাপও কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে পচেফস্ট্রুমে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা জয়ের জন্য লক্ষ্য ছোট হলেও একশো পেরিয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন হয়ে যায় ফিকে। তবে অধিনায়ক আকবর আলী আর ক্র্যাম্পের কারণে বেরিয়ে যাওয়া ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন আবার মাঠে ফিরে জুটি বাঁধলে আশা দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৯ বলে ৪৭ করে পারভেজ যশস্বী জসওয়ালের শিকার হওয়ায় ফের আশা-নিরাশার দোলাচলে পড়ে যায় যুবারা। তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। কিন্তু এ সময় আকবর নতুন কৌশল হাতে নেন। উইকেটে টিকে থাকতে হবে। হাতে বল অনেক। উইকেটগুলোই কেবল আগলে রাখতে হবে। আকবরের নতুন কৌশলে নিজেকে মিলিয়ে দেন রকিবুল হাসান। ভারতের প্রতিটি বল দেখেশুনে খেলেছেন তারা। একপর্যায়ে টানা ২৫ বলে রানশূন্য ছিল বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে নিজেদের খোলস থেকে বের করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ওই মুহূর্তে অবশ্য বৃষ্টি আইন এগিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশকে। পচেফস্ট্রুমের বাংলাদেশি সমর্থকদের তখন কায়মন প্রার্থনা বৃষ্টির। তবে আকবর আর রকিবুল যেভাবে উইকেটে নিজেদের বেঁধে ফেলেছিলেন, তাতে দুর্ভাবনা খুব একটা ছিল না। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন প্রয়োজনীয় রানটা খুব সহজেই নিয়ে নিতে পারবেন তারা। কেবল টিকিয়ে রাখতে হবে উইকেট। সে সময় বৃষ্টি আইনে ১৬ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। খেলা আর শুরু না হলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন, এমন একটা সমীকরণ মাথায় নিয়েই ড্রেসিংরুমে ফেরেন আকবর-রকিবুল। কিন্তু বৃষ্টি থেমে গেল দ্রুতই। এবার নতুন লক্ষ্য ৩০ বলে ৭। বৃষ্টি শেষে মাঠে নেমে আকবর আর রকিবুল তেমন সময়ই নিলেন না। বাংলাদেশকে পৌঁছে দিলেন বিশ্বজয়ের মঞ্চে।

এই ফাইনালের পথে বাংলাদেশ একবার মাত্র হোঁচট খেতে বসেছিল, গ্রুপপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১০৬ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা। বৃষ্টির কারণে পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। তবে তার আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে আর দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হেসেখেলে হারিয়ে দেয়।

কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তানজিদ হাসান তামিমের ৮০ আর শাহাদাত হোসেনের ৭৪ রানের হার না মানা ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে রকিবুল হাসানের হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নেয়া দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশ জেতে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে।

সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। এবার বাংলাদেশের বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে ৮ উইকেটে ২১১ রানে আটকে যায় কিউইরা। জবাবে মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে (১০০) ভর করে ৬ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় যুবারা। প্রথমবারের মতো নাম লেখায় ফাইনালে।

ফাইনালেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় পড়েছিল বাংলাদেশ। আরও একবার বোলাররা ভরসা দিয়েছেন। ভারতের মতো দলকে তারা ১৭৭ রানেই গুটিয়ে দেন। তবে শক্তিশালী ভারত হাল ছাড়েনি। দারুণ বোলিংয়ে ১৪৩ রানের মধ্যে বাংলাদেশের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল টাইগার সমর্থকদের। মাস ছয়েক আগে এশিয়া কাপে ভারতকে ১০৬ রানে অলআউট করেও ৫ রানে হেরে গিয়েছিল এই যুবারা। তবে এবার আরও বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ ধরে রাখার কাজটা ভালোভাবেই করলো তারা। ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফিটা হাতে নিয়েই ছাড়লেন অদম্য আকবর আলী, পারভেজ হোসেন ইমনরা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com