বাংলাদেশ আর কোনো রাষ্ট্র নেই, এটি আ.লীগের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে: ফখরুল

বাংলাদেশ আর কোনো রাষ্ট্র নেই। এটি আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি-জমিদারিতে পরিণত হয়েছে। তারা যা ইচ্ছা তা করবে এবং তাই করে যাচ্ছে। কারণ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল তারাই সবার আগে নষ্ট হয়ে গেছেন। আজকে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন, তারা সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ মে) এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর লেখা‘ফেনীতে ৩২১ দিন, জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা’ বইযের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা সত্যিকার অর্থে একটি ভালো কল্যাণমূলক রাষ্ট্র দেখতে চায়। সেই কারণে বিএনপি কম ত্যাগ স্বীকার করেনি। বিএনপির নেত্রী গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য কারাগারে বন্দী। আজকে আমাদের ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা। সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন আমাদের নেতা-কর্মীদের আদালতে হাজির হতে হচ্ছে। গত দেড়-দুই বছরের মধ্যে আমাদের প্রায় ২২ জন নেতা-কর্মীকে রাস্তায় পুলিশের সাথে যুদ্ধ করে প্রাণ দিতে হয়েছে। আমাদের ৭০০-এর বেশি নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছেন। তারপরও আমরা হাল ছেড়ে দেইনি। আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করছি।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে আবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিয়ে আসা হলো, তখন আমরা এর বিরোধিতা করেছি, প্রচুর আন্দোলন করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা এত প্রতিকূলতা, এত বৈরী অবস্থা, এত যন্ত্রনার পরেও চেষ্টা করছি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। আমরা চেষ্টা করছি মানুষের সমস্যাগুলোকে সমানে নিয়ে আসার।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, আমরা রাজনীতির খুব কঠিন সময়ে অবস্থান করছি। এত কঠিন সময় মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো আসেনি। আমরা যারা সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করি, তাদের একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমরা রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজনীতি করি।

‘ফেনীতে ৩২১ দিন, জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা’ বই সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, সোলায়মান চৌধুরী সাহেব তার যে সাহসের বর্ণনা বইতে দিয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। বিশেষ করে সৎ দায়িত্বশীল আমলাদের অনুপ্রাণিত করবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে সূচীপত্র প্রকাশনী।

Comments (০)
Add Comment