বিএনপি নয়, আ.লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে এরইমধ্যে আইসিইউতে চলে গেছে: ফখরুল

0

‘নির্বাচনে না এলে বিএনপি আইসিইউতে যাবে’-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ‌বলেছেন, বিএনপি আইসিইউতে যাবে না, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে এরইমধ্যে আইসিইউতে চলে গেছে।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এখন সংগ্রামে আছি, আন্দোলনে আছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে নিয়ে সরকার বিভিন্নভাবে নাটক শুরু করেছে। তাদের (সরকার) মন্ত্রীর একদল বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না। আরেকদল বলেন, তার (খালেদা জিয়া) রাজনীতি করতে বাধা নেই। হঠাৎ করে আপনাদের (সরকার) এত দরদ উতলে উঠলো কেন? আপনারা খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার ব্যাপারে একেবারে পাগল হয়ে গেলেন। আপনাদের উদ্দেশ্য একেবারেই ভালো না।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার যখন রাজনীতি করার সময় আসবে, তিনি রাজনীতি করবেন। তিনি কারগারে থাকুক আর যেখানেই থাকুক, তিনি অবশ্যই রাজনীতি করবেন৷ কারণ খালেদা জিয়া এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় মাতা। আপনাদের (সরকার) এসব কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। তার সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন, দল নেবে।

সরকার দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, তারা দেশের মানুষের দৃষ্টি ভিন্নদিকে নিয়ে যেতে চায়। আমাদের (বিএনপি) দৃষ্টি এখন একটাই, আমরা আমাদের অধিকার ফেরত চাই। আমাদের ভোটের অধিকার ফেরত চাই। এই সরকারকে আমরা আর দেখতে চাই না। সরকারকে এ মুহূর্তেই পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করে আর ভিন্ন পথে পাঠানো যাবে না।

সরকার নির্যাতন করে টিকে আছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, নির্যাতন আমাদের উপর হবে, এটা আমরা জানি। কারণ আমরা সত্যের পথে আছি, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি, মানুষের কথা বলছি। সুতরাং, নির্যাতনের কথা বলে লাভ নেই। নির্যাতন তারা (সরকার) করবে। নির্যাতন করে তারা (সরকার) টিকে আছে। এজন্য তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রধান কাজ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, তাঁতী, কুমার এরা খুব কষ্টে আছে। চাল, ডাল, তেল, লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছুর দাম বেড়ছে। শরহগুলোতে বাড়ি ভাড়া বাড়ায় সবাই গ্রামে চলে যাচ্ছে। দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন বক্তৃতায় বলেন, এত উন্নয়ন দিচ্ছি, তারপরও এরা (জনগণ) চিৎকার করে কেন? আরে উন্নয়ন করছেন আপনাদের (সরকার) নিজেদের। উন্নয়ন করছেন আপনাদের (সরকার) যারা আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, দলের মানুষ, আপনাদের আশ্রয়ে থাকাদের। তারা ইতোমধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। আর সাধারণ মানুষ না খেতে পেয়ে, কর্মসংস্থান না পেয়ে বেকার হয়ে গেছে। তাদের জীবন চলছে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, সরকারের হিসাব অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। অথচ সাধারণ মানুষের আয় ৫ শতাংশও বাড়েনি। তাঁত শিল্পে কোনো বিনিয়োগ নেই, বিদেশ থেকে কোনো বিনিয়োগ আসছে না। নতুন কলকারখানা তৈরি হচ্ছে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ একেবারে খাদের কিনারে চলে এসেছে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের এই দিকে কোনো খেয়াল নেই। তাদের দরকার শুধু টাকা, টাকা আর টাকা। এই টাকা আপনি আমি দেই। সরকারের ট্রেজারি যেটা, সেটা সরকারের বাপের নয়, এটা জনগণের। প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত পানি করা রেমিট্যান্স দিয়ে জিনিসপত্র আমদানি করা হয়। গার্মেন্টস থেকে টাকা আসে বলে দেশের অর্থনীতি এখনো চলছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের দুর্নীতি এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, সমস্ত ব্যাংকগুলোকে দুর্নীতি করে ফোকলা করে দিয়েছে। রিজার্ভের টাকা নিচে নেমে চলে এসেছে। আজকে কেউ বিনিয়োগ করছে না। এই অবস্থার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী বর্তমান সরকার। তার প্রধান কারণ, এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। সংসদ একটি বানিয়েছে, যে সংসদ জনগণের নির্বাচনেই হয়নি। এটা নিয়ে প্রশ্ন করারও কেউ নেই, জবাব দেওয়ারও কিছু নেই।

বাম দল আওয়ামী লীগের চেয়ে খারাপ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে বিনা ভোটে, বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে। আর আমাদের জাতীয় পার্টি ডুগডুগি বাজিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দিল। শুধু জাতীয় পার্টি নয়, বাম দলের প্রখ্যাত নেতারাও নৌকার সঙ্গে মহাজোট করে সেদিন নির্বাচনে চলে গিয়েছিল। এরা আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ।

তিনি আরো বলেন, সংবিধানে নেই, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা যাবে না। আর তোমরা (আওয়ামী লীগ) যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে ১৭৩ তিন হরতাল করেছিলে, তখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে ছিল না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেখেছেন, জনগণ এটা চায়, এটা করলে রানৈতিক সমস্যা-সংকটের সমাধান হবে, তখন তিনি জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন বসিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে সংবিধানে সংযুক্ত করেছিলেন। বিএনপি তো সেদিন অন্য কোনো সুযোগ নিয়ে নিজের মতো করে নির্বাচন করতে চায়নি।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কথায় কথায় বলে বিএনপি ভোট চুরি করে। বিএনপি কোনোদিন ভোট চুরি করেনি। যতবার ভোট চুরি করেছেন আপনারা (আওয়ামী লীগ)। ১৯৭৩ সালে ভোট চুরি করেছেন, পরবর্তীকালে ভোট চুরি করেছেন। গত দুইটি নির্বাচনে ভোট চুরি করে, কারচুপি করে, ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে আপনারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় গেছেন। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, রাজনৈতিক দল মানেই শুধু কমিটি করা বা সদস্য তৈরি করা নয়। রাজনৈতিক দল বিশেষ করে তাঁতী দলের মতো অঙ্গ সংগঠনের তাঁত শিল্প ও তাঁতীদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। অঙ্গ সংগঠনগুলো তো মূল রাজনীতির সঙ্গে অবশ্যই থাকবে, সেইসঙ্গে তাদের যে সুনির্দিষ্ট পরিধি আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। আমি খুব খুশি হবো তাঁতী দল যদি তাঁতীদের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, আজকে তাঁতীদের একটি অসম প্রতিযোগিতা করতে হয়। যন্ত্রের তাঁতের সঙ্গে হাতে তৈরি তাঁত পেরে উঠেনা, প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়েছে, সেই প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তাঁত শিল্পের টিকে থাকা কঠিন। তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

তিনি আরো বলেন, তাঁতী ও তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁতী দল তৈরি করেছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাই তাঁতী দলের প্রতি আমার আবেদন, আপনারা আপনাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করুন। কীভাবে তাঁতী ও তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখবেন সেজন্য কাজ শুরু করুন। শুধু মূল দলের সঙ্গে রাস্তয় নেমে স্লোগান দিলে আপনার রাজনীতি হবে না, আপনার কাজ হবে না। আপনাতের তাঁতীদের জন্য কাজ করতে হবে। তাহলে জনগণ সম্পৃক্ত হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.