আমরা রিজভীর অতিসত্বর মুক্তি চাই: খসরু

0

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অতিসত্বর মুক্তি চেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, রিজভীর মতো নেতাকে জেলে রেখে সরকার যে রাজনৈতিক অপচিন্তার প্রয়োগ করেছে, এটি জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখারই নামান্তর। কিন্তু ভয়-ভীতি দেখিয়ে, মামলা-হামলা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। যারা দেয়ালের লিখন পড়তে পারে না, আগামীর দিনগুলো তাদের জন্য খুব কঠিন হবে। আমরা রিজভীর অতিসত্বর মুক্তি চাই।

রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি)বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর আদাবরের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমের সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, রিজভীর দরকার উন্নত চিকিৎসা। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তার আগামীর দিনগুলো আরো বিষণ্ণ হবে। তিনি কঠিন সময় পার করছেন। এ দেশে দেশের বাইরে যতটুকু নির্যাতন হয়, জেলে তারচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হতে হয়। সব জায়গায় নির্যাতন-নিপীড়নের অবস্থা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রিজভী আহমেদ এমন একজন নেতা, যার সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, শিক্ষা ও সাহস নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তার মতো নেতাকে জেলে নিয়ে যে অপসংস্কৃতির আমদানি করা হয়েছে, ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য সেটা মঙ্গলজনক নয়।

রিজভী আহমদের মামলা নিয়ে প্রশ্ন করলে তার স্ত্রী বলেন, মামলার সঠিক সংখ্যা জানা নেই। যেদিনই তাকে জামিনের জন্য কোর্টে নিয়ে আসা হচ্ছে, সেদিনই তাকে একটা না একটা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে খসরু বলেন, রিজভীর নামে অজানা যে কত মামলা আছে, তা কেউ জানে না। সরকার সেগুলো প্রয়োজন মতো বের করছে আর কাজে লাগাচ্ছে। অর্থাৎ জেল থেকে তিনি যেন বের হতে না পারেন, সেজন্য যে পন্থাই অবলম্বন করা দরকার, সরকার তা-ই করছে।

নির্বাচনবিষয়ক এক প্রশ্নে খসরু বলেন, বিএনপি’র নির্বাচনের বিষয় পরিষ্কার করেছে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনে যেতে হলে এমন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে, যেখানে দেশের জনগণ প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবে। এটি যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

রিজভীর স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘ওর (রিজভীর) একটি সুচিকিৎসা হওয়া দরকার। ওর কোভিডের কারণে নার্ভের অবস্থা ভীষণ খারাপ। ও হার্টের রোগী। এসবেরই ডাক্তারি সার্টিফিকেট আমরা কোর্টে দিয়েছি। তারপরও কোর্ট এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা চাচ্ছি, ওকে কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চেকআপ করা হোক। তা না হলে ওর শরীরটা আরো খারাপ হয়ে যাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মাদ মনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং ও মাহাবুল ইসলাম।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.