ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ঋণ কমানো এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঘোষিত দলের ইশতেহারে এ সংক্রান্ত একাধিক সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালুর অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার ও বাণিজ্য খাত সংস্কারে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। ইশতেহারে বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতির আকস্মিক পরিবর্তন রোধ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ বাস্তবায়ন, ‘এফডিআই ক্যাপ্টেন’ নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টা সচল হেল্পডেস্ক চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সহজীকরণ, হয়রানিমুক্ত ও দ্রুত মুনাফা প্রত্যাবসান, ভ্যাট ও কাস্টমস রিফান্ড ডিজিটালাইজেশন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার কথা বলা হয়।
বেসরকারি খাত উন্নয়নে যৌথ অংশীদারিত্বে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ‘ইনভেস্টর প্রোটেকশন রেগুলেশন’ প্রণয়ন এবং বাণিজ্যিক মামলা নিষ্পত্তিতে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, ‘নেক্সট ফ্রন্টিয়ার ইকোনমি’ ব্র্যান্ডিংয়ে বৈশ্বিক প্রচারণা, অযৌক্তিক কর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম সহজীকরণের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সংস্কারে সুদহার যৌক্তিককরণ, অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন, ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্তি, ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং খেলাপি ঋণ সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
পুঁজিবাজার সংস্কারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত, ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন, বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও কারসাজি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইশতেহারে শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠন, করপোরেট বন্ড ও সুকুক প্রবর্তন, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
স্টার্টআপ ও এসএমই খাতের জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালু, ‘পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার শিক্ষা প্রসারের কথাও উল্লেখ করা হয়।
বাণিজ্য সহজীকরণে অর্থনীতি উদারীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন, রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে লজিস্টিকস হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।