পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করলে চব্বিশে আমাদের সন্তানদের জীবন দিতে হতো না: অতিরিক্ত আইজিপি
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত আইজি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, অতীতে পুলিশ সদস্যরা রাষ্ট্রের নিয়ম মেনে সঠিক দায়িত্ব পালন করলে চব্বিশে আমাদের সন্তানদের জীবন দিতে হতো না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ৫৩ টিআরসি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, থানায় আমাদের আপ্যায়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ থাকে, অনেক ক্ষেত্রে তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করে আমরা নানা অজুহাত দেখাই। আমরা বলি, এটা পুলিশের কাজ নয়, ওটা পুলিশের কাজ নয়। এর ফলে জনগণের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে, তারা আমাদের এখন বিশ্বাস করতে চায় না।
তিনি বলেন, আমরা যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সত্যিকার অর্থে দেশের সার্বভৌমত্ব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করতে পারি, তাহলে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, অতীতে পুলিশের প্রতি জনগণের যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। কারণ পুলিশ ছাড়া কোনো সমাজব্যবস্থাই কার্যকরভাবে চলতে পারে না। পুলিশকে আগামীর রাষ্ট্র গঠনে আইন মানার দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি অভিভাবক ও অতিথিবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানাতে চাই, আইন মান্যকারী জনগণ ছাড়া কোনো দেশ বা সমাজ ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, মতবিরোধও থাকতে পারে। কিন্তু সে মতভেদ যেন কখনো দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি বা সার্বিক কল্যাণের বিরুদ্ধে না যায়। এ বিষয়ে আমাদের সন্তানদের ও নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব যদি আমি সঠিকভাবে পালন করতে না পারি, তবে হিংসা বা ঈর্ষান্বিত হয়ে অন্য কেউ আমার তদন্ত ক্ষমতায় অপব্যবহার করতে চাইতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে, যাতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
পুলিশ সঠিক থাকলে চব্বিশে আমাদের সন্তানদের জীবন দিতে হতো না
মো. আলী হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা যেন জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। আর যেন কোনো সন্তানকে জীবন দিতে না হয়। আমরা যেন রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। সবাইকে সেই চেষ্টা করতে হবে।