ছয় মামলায় শেখ হাসিনার মোট ৩৬ বছরের কারাদণ্ড
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে দুর্নীতির মাধ্যমে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার দায়ে ছয় মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ৩৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর এই সাজা কার্যকর হবে বলে সব মামলার রায়ে বলা হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এই দুটি মামলায় প্রত্যেকটিতে পাঁচ বছর করে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাকে।
শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় আজ।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। দুই মামলায় শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
এর আগে একই আদালত গত বছর ১ ডিসেম্বর শেখ রেহানার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এর আগে গত বছর ২৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ শেখ হাসিনার নিজের নামে, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে ও মেয়ে পুতুলের নামে তিনটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় মোট ৩৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো শেখ হাসিনাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে শেখ হাসিনার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত বছর ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতির দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য ও অন্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করে। গত বছর ২৫ মার্চ ছয় মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। গত বছর ৩১ জুলাই আদালত সব মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
প্লটগুলো বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত গণ কর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে প্লটগুলো নিজেদের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন।
প্রত্যেক মামলার রায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রভাবিত করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সব আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্লট নিয়েছেন। এটা ফৌজদারি অপরাধ।