নৌ ও রেলপথে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন মানুষ
ঈদুল ফিতর উদযাপনে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন মানুষ। টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেল স্টেশন কোথাও জটলা ও ঝামেলা নেই। বৃহস্পতিবার থেকে দুর্ভোগ বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় হাজার হাজার মানুষকে আগেভাগে ঢাকা ছাড়তে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, হাজার হাজার পরিবার ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে ঢাকা ছাড়ছেন। কমলাপুর, সদরঘাট, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীসহ নগরীর অন্যান্য বাস টার্মিনাল ও বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীরা তেমন ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
গাবতলী টার্মিনালে মিলছে সব রুটের বাসের টিকিট। পবিত্র ঈদুল ফিতর ৩০ অথবা ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার থেকে ভিড় বাড়বে।
হানিফ পরিবহণের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাউন্টারে তেমন ভিড় নেই। তবে গার্মেন্ট ও সরকারি ছুটির কারণে ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চ থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, স্বল্প পরিসরে কিছু লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। সেগুলো আবার যাত্রীতে পূর্ণও না। লঞ্চ মালিকরা মুখিয়ে রয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে তিন চার দিনের যাত্রী পরিবহণের আশায়। লঞ্চ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, এক সময় সদরঘাটে লঞ্চের রমরমা ব্যবসা ছিল। পদ্মা সেতু চালুর পর সে ব্যবসা নেই। বলা চলে খুঁড়িয়ে চলছে লঞ্চ ব্যবসা। ঈদের সময় কিছুটা ব্যবসা হয়, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
আর কমলাপুর রেল স্টেশনে দেখা যায়, আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন। এখন পর্যন্ত শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ এখনকার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
যাত্রী হয়রানি দূর করতে টার্মিনালে সিসিটিভি বসানো হবে: ছিনতাই ও যাত্রী হয়রানি দূর করতে টার্মিনালগুলোয় সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং বিআরটিএ’র সমন্বিত উদ্যোগে সিসিটিভি, ইলেকট্রনিক মনিটরিং পদ্ধতি বসানো হবে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে সিসিটিভির আওতায় মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শন ও উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে বাস টার্মিনাল সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বেষ্টনীর আওতায় আনার ক্ষেত্রে সিসিটিভি স্বল্পতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসিটিভির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকবে সরকার।’
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।