প্রশাসনে হাসিনার দোসরদের বহাল রেখে অন্তর্বর্তী সরকার বেশিদূর এগোতে পারবে না: সালাউদ্দিন
প্রশাসনে হাসিনার দোসরদের বহাল রেখে অন্তর্বর্তী সরকার বেশিদূর এগোতে পারবে না, সর্ষের মধ্যে ভূত রেখে কখনো প্রধান উপদেষ্টা সফল হবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে শেখ হাসিনার দোসররা আছে, তাদেরকে বহাল রেখে অন্তর্বর্তী সরকার বেশিদূর এগোতে পারবে না। উচ্চ আদালত থেকে অধস্ততন আদালত পর্যন্ত যারা রাতের বেলা কোর্ট বসিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের শান্তি দিয়েছে তাদের কারো চাকরি গিয়েছে কিনা প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের অনেকে জামিনে বের হচ্ছে। হাসিনার আমলের নিশিরাতের বিচারকরা এসব জামিন দিচ্ছে বলে বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের একজনেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। নিশিরাতের আদালতের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় ঐক্য ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের গতি শ্লথ উল্লেখ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সরকার কী সংস্কার করবে বোধগম্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে, আওয়ামী লীগকে কয়দিন পুলিশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখবেন। আওয়ামী লীগের রাজনীত নিষিদ্ধ করার কথা বললেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্ববিরোধী অবস্থানে সরকার।
তিনি বলেন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিকভাবে বিচারের দাবি জানায় বিএনপি। নিশিরাতের বিচারকদের বহাল রেখে বিচারবিভাগকে চূড়ান্তভাবে স্বাধীর করা যাবে কিনা বা তাদের বহাল রাখা উচিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে বলেও মন্তব্য করেন সালাউদ্দিন।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত রেখে কখনো প্রধান উপদেষ্টা সফল হবেন না। ফ্যাসিবাদের দোসরদের পরিষ্কার করতে হবে। এ সময় সাংবিধানিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনমুখী সংস্কারে হাত দেয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন ঘিরে বেশি সময়ক্ষেপনের জন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করলে জাতি মেনে নিবে না। সংস্কার ও নির্বাচন দুটোকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দিবো, এ বক্তব্য সঠিক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের নামে সাংবিধানিকভাবেই সরকার শপথ নিয়েছেন। কিন্তু লেজিটেমিসি ক্রাইসিস দূর করতে নির্বাচিত সংসদ দরকার।
জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি দলের পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরি করেছে। ছাত্রদের ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে রাজনৈতিক দলিল হিসেবে এটিকে সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এ নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার আহ্বান জানান তিনি।