আ.লীগ জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে: বিএনপি
এক নেতা এক দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। মুজিববাদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে আর অন্য কিছু থাকবে না। এই একটি দর্শন তাকে সামনে নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭৫ সালে তারা এ চেষ্টা করেছে ব্যর্থ হয়েছে। এবার ভিন্ন কৌশলে সেই দর্শন নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকাংশই তারা সফল হয়েছে। এখন পাঠ্যপুস্তকে একজন নেতা ছাড়া অন্য কারো নাম নেই, ইতিহাস নেই। ফলে শিক্ষার্থীলা রাজনীতিতে একজনের নাম ছাড়া কারও নাম জানে না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নাম ভুলে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।’
গতকাল বুধবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬০ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে, বিরোধী দলের রাজনীতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রাখা হয়েছে। এই যে মিথ্যাচার, এর জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত বলি যে প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর এজন্যই শেরে বাংলা ফজলুল হকের মতাদর্শন আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।’
তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ আগ্রাসন এই জাতির উপর শুরু হয়েছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে। আগ্রাসন রুখতে হবে কারণ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সরকারের আগ্রাসনটা সর্বগ্রাসী। একদিকে ইতিহাস বিকৃত করছে অর্থনীতিকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, অন্য দিকে রাজনীতিকে এক দলীয়করণের দিকে নিয়ে গিয়ে গণতন্ত্রকে সরিয়ে দিয়ে ফ্যাসিবাদী দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই বিষয়গুলো সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করছে। শুধুমাত্র ক্ষমতা টিকে থাকার বিষয় নয় বরং এটাকে দার্শনিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে সরকার। আর এ সমস্ত কাজগুলো করার জন্য দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের সংঘর্ষে ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংঘর্ষে দু’জন প্রাণ দিলেন অথচ পুলিশ প্রথমেই বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, রিমান্ডে নিয়েছে। অথচ সমস্ত গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে এসেছে এ ঘটনার জন্য মূলত দায়ী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।’
কলাবাগান তেতুলতলা খেলার মাঠ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘বাচ্চাদের ফুটবল খেলার মাঠ দখল করে থানা বানানো হচ্ছে। এরকম অসংখ্য ঘটনা, আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষের কোথাও কোনো নিরাপত্তা নেই। বরং কি করে তাদের আরও বেশি হয়রানি করা যায় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’