রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর আপাতত নয়

0

জেটিভি রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ভাসানচর উপযুক্ত জায়গা হলেও আপাতত সেখানে নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান এমপি।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে সিরাজদিখানের সব কেমিক্যাল গোডাউন সরানো হবে।

রাখাইনের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিরসনে টেকসই ও সমন্বিত সমাধান চাইলো দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’। গত রবিবার (২৩ জুন) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত জোটের ৩৪তম সম্মেলন শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ প্রত্যাশা জানানো হয়। এবার জোট নেতাদের পক্ষ থেকে আসিয়ান চেয়ারম্যান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা বিবৃতিটি প্রদান করেন।

এ দিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপের নীতি অনুসরণ না করলেও এবার সম্মেলন শেষে দেওয়া বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। যার মাধ্যমে বিষয়টি শুধু যে মিয়ানমারের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এবার তারই স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশও এই একই ইস্যুতে আসিয়ান নেতাদের ভূমিকা প্রত্যাশা করে আসছে। যার অংশ হিসেবে গত দুই বছর যাবত মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত শনিবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জাপানি গণমাধ্যম ‘কিয়োটো নিউজে’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, আসিয়ান নেতারা চলমান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জোটবদ্ধভাবে ভূমিকা পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যে কারণে গত রবিবার সম্মেলন শেষে আসিয়ান চেয়ারম্যান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা সাংবাদিকদের এই রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে কোনো কথা বলেননি।

যদিও আসিয়ান ভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকরা বলেছেন, গতকাল ব্যাংককের রিট্রিট সেশনে আসিয়ান শীর্ষ নেতারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। যেখানে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি অত্যন্ত জটিল। মিয়ানমার সরকার এর সমাধান বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তাছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো উভয়েই রাখাইনে ফেরার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমানে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই একমাত্র মুখ্য ইস্যু হয়ে উঠেছে। যে কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কখনোই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।’

আসিয়ানের ৩৪তম সম্মেলন শেষে দেওয়া বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকা ইস্যুতে প্রকাশ্যে কোনো সমালোচনা করা হয়নি। তাছাড়া সম্মেলন মিয়ানমারের বর্তমানের অবস্থানের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের বদলে ‘বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি’ বলা হয়েছে।

অপর দিকে আসিয়ান চেয়ারম্যান প্রায়ুথ চান-ওচা সম্মেলন শেষে জোটের নেতাদের পক্ষে বিবৃতিতে বলেন, ‘রাখাইনে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং বাস্তুচ্যুত লোকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় ফেরানোর ব্যাপারে যতটা সম্ভব কার্যকর সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে আমরা জোর দাবি করছি। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে মিয়ানমারের অঙ্গীকারকেও পুরোপুরি সমর্থন জানাচ্ছি।’

আসিয়ান চেয়ারম্যান তার বিবৃতিতে এও বলেছেন, ‘সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমন্বিত ও টেকসই সমাধান অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর পুনর্বাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। তাছাড়া রাখাইনের রাজ্য বিষয়ক পরামর্শক কমিশনের (আনান কমিশনের) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের যে সব সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

এর আগে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনের বেশ কয়েকটি সামরিক চৌকিতে বিচ্ছিন্ন হামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যটিতে সন্ত্রাসী দমনের নামে অভিযান শুরু করে সেনা সদস্যরা। এতে সে সময় হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে অতিরিক্ত প্রায় ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বর্তমানে তারা কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com