স্মৃতিনাশের কারণ নেতিবাচক চিন্তা
এটা এমনই ‘খারাপ’ খবর, যা পড়েও আপনাকে আশাবাদী হতে হবে! নইলেই বিপদ। কারণ নেতিবাচক চিন্তা পরবর্তী জীবনের স্মৃতিভ্রংশের সঙ্গে যুক্ত।
বুঝতেই পারছেন, ‘আধা গ্লাস খালি’ এমন নৈরাশবাদী চিন্তা বাদ দিতে হবে। এটা মস্ত্বিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, পুনরাবৃত্তিমূলক নেতিবাচক চিন্তার কারণে দুটি ক্ষতিকর প্রোটিনের বিকাশ ঘটে মাথায়। যা চিন্তার ক্ষমতা ধ্বংস করা অ্যালঝেইমার রোগের জন্য দায়ি।
প্রধান গবেষক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ডা. নাটালি মার্চেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, অতীতের নেতিবাচক ঘটনা ও ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ ছিল গবেষণার বিষয়। যেখানে ৩৫০ জন ব্যক্তিকে দুই বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তাদের এক তৃতীয়াংশের ব্রেন স্ক্যানে অ্যালঝেইমারের জন্য দায়ি তাউ ও বেটা অ্যামাইলয়েড নামের দুটি প্রোটিনের উপস্থিতি পরীক্ষা পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, যারা বেশি সময় নেতিবাচক চিন্তা নিয়ে পার করেন তাদের মাঝে এ দুটি প্রোটিন তৈরি হয়। এ সব দেখে বলা হচ্ছে, চার বছর সময়কালে আশাবাদী মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নৈরাশ্যবাদীদের স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানগত চিন্তার সক্ষমতা হ্রাস করে।
গবেষণাটি আরও জানায়, উদ্বেগ ও হতাশার কারণে চিন্তাশক্তির পতন ঘটে। যা আগেও বলেছেন গবেষক। নতুন বিষয় হলো এ দুটির কারণে নেতিবাচক চিন্তা করে মানুষ। যাকে এখন তাদের স্মৃতিভ্রংশের কারণও বলা হচ্ছে।
নাটালি জানান, এটিই প্রথম পরীক্ষা যেখানে জানা গেছে নেতিবাচক চিন্তার সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের সম্পর্ক রয়েছে। যা অ্যালঝেইমার রোগী ও অন্যদের চিকিৎসায় কাজে লাগবে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার দরকার রয়েছে।