নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এলাকার মানুষের প্রতি আমি দায়বদ্ধ: রবিন
ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমি এলাকার মানুষের দ্বারপ্রান্তে গিয়েছি। উঠান বৈঠক ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মানুষের সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করে ২০টি অঙ্গীকার ঘোষণা করেছি। এগুলো সাধারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এলাকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা। কারণ আমি এ এলাকার সন্তান, এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ অতীতে একাধিকবার এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকার উন্নয়নের সূচনা করেছিলেন। আমাকেও ২৪ ঘণ্টাই এই এলাকার মানুষের মধ্যেই থাকতে হবে। তাই মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কদমতলী থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রবিন বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এলাকাকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনাই তার প্রধান অঙ্গীকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ২২ জানুয়ারি থেকে তিনি এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং সরাসরি মানুষের কাছ থেকে সমস্যার কথা শুনছেন।
তিনি দাবি করেন, ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৪ সবচেয়ে অবহেলিত। এ এলাকায় খেলার মাঠ, সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পাঠাগার ও বিনোদন সুবিধার চরম ঘাটতি রয়েছে।
জলাবদ্ধতা, মাদক ও সন্ত্রাস, গ্যাস সংকট এবং সুপেয় পানির অভাব এখানকার প্রধান সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করতে শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে কাভার্ডভ্যান ব্যবহার এবং ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ছাদ বাগান জনপ্রিয় করতে বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে কিশোররা মাদক ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে আনা সম্ভব।
ঢাকা-৪ আসনের (শ্যামপুর-কদমতলী) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে শতশত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সকাল ১০টায় জালালাবাদ আয়রন মার্কেটের সামনে থেকে নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে মুরাদপুর লালমিয়া সর্দার রোড, হাইস্কুল মাদ্রাসা রোড, রজ্জব আলী সর্দার রোড ও পাটেরবাগ এলাকায় গণসংযোগ শেষে পুনরায় মাদ্রাসা রোডের মাথায় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
এ সময় রাস্তা ও ছাদের ওপর থেকে শিশুরা তাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেয়। এলাকার মুরব্বিরাও তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।